SLDP Days : A wonderful experience

BUET Entrepreneurship Development Club presents
Student Leadership Development Program
powered by U.S. Embassy-Dhaka

আজ ৬ সপ্তাহব্যাপী এই ওয়ার্কশপের শেষদিন ছিল। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ছিল এই ওয়ার্কশপ- সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। বুয়েট থেকে আমরা ৪০ জনের মত এবং ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশ এর কয়েকজন (১০/১২) নিয়ে এই ওয়ার্কশপ কন্ডাক্ট করা হত।ওয়ার্কশপ আয়োজনে ছিল U.S. Embassy-Dhaka এবং EXPRESSIONS LTD

ওয়ার্কশপের ক্লাস হতো বনানীতে, হোটেল ট্রপিক্যাল ডেইসির সেমিনার রুমে। প্রতিদিন সকালে যেতাম, বিকেল পর্যন্ত ক্লাস করে তারপর জ্যাম ঠেলে আবার বাসায় ফেরত আসতাম। ক্লাস করতাম বললে ভুল হবে। সেশন গুলা আয়োজনই করা হয়েছিল এত এন্টারেক্টিভ ভাবে যে বলে বুঝানো যাবে না। আমাদের সেশন গুলো পরিচালনা করতেন টনি দা, প্রথম দেখায় তো ভেবেছিলাম যে উনি হয়তো জন কবির। মার্কিন দূতাবাসের লোকজন উনাকে দিয়ে আমাদের সেশন নেয়াচ্ছেন, এটাই মাথায় ঘুরছিল। ওয়ার্কশপের নাম দেখে প্রথমে যা ভেবেছিলাম, আসলে ওয়ার্কশপ তেমন হয় নি। পুরোই ভিন্নধর্মী একটি ওয়ার্কশপ হয়েছে এটা এবং তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।

ওয়ার্কশপের প্রথম সেশনে আমরা আলোচনা করা হইসিল- “বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও ইতিহাস” নিয়ে। এটায় আমরা জাতি হিসেবে আমাদের যে ইতিহাস, তার একটি পূর্ণ, জ্ঞানে সমৃদ্ধশীল অনেক ইনফরমেশন জানতে পারসি। এটায় ছিল ইন্টারেকটিভ কয়েকটি সিঙ্গেল টাস্ক, কয়েকটি টিম টাস্ক করতে দেয়া হইসিলো। টাস্কগুলো আসলেই অনেক জোস ছিল!

দ্বিতীয় দিন আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল- “লিডারশীপ”। একজন সফল লিডার হতে গেলে কী কী বিষয় অত্যন্ত চিন্তা-ভাবনার সাথে ম্যানেজ করতে হয়, তা নিয়েও আমরা ডিসকাস করেছিলাম। তাছাড়া, টিম ম্যানেজিং এর গুরুত্বপূর্ন কিছু পয়েন্টস মজার গেমসের মাধ্যমে শিখানো হয়েছিল। লিডারদের কী কী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, কিভাবে পরিস্থিতি ট্যাকেল করতে হয়, আর সেই পজিশনে প্রেশারটা কেরকম হয়, তা খুবই ভালো ভাবে বুঝা গিয়েছিল সেশনটা করার পর। আর কোনো টিম ওয়ার্কে কখন লিডারের ভূমিকা বেশি/কম থাকে, সেটা আরো ২টা গেমসের মাধ্যমে খুব ভালো ভাবেই বুঝা গিয়েছিল।

তৃতীয় দিন “টেরোরিজম এন্ড ইফেক্টস” নিয়ে খুবই বিস্তর একটা সেশন নেয়া হয়, যেটা আমাদের সবার কাছেই বেশ ভালো লেগেছিল। এটি খুবই সেন্সেটিভ একটা বিষয়, যেটা নিয়ে না স্কুলে, না কলেজে, না কোথাও আমাদের ধারণা দেয়া হইসে। তাই, লাইফে এই বিষয় নিয়ে আগে যত জ্ঞান ছিল, তার চেয়ে আরো বেশি জ্ঞান লাভ করসি এই সেশনটার মাধ্যমে। কিভাবে এই জিনিসটা শুরু হয়, ছড়ায়- তার এ টু জেড আমাদের মাঝে তুলে ধরেছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের অফিশিয়াল, ওয়াহিদুজ্জামান নূর ভাই। যিনি প্রত্যক্ষ ভাবে এন্টি-টেররিজমের বিভিন্ন সফল অপারেশনে নিযুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে এই সেক্টরে কাজ করে যাচ্ছেন।

চতুর্থ সেশনে আমাদের আলোচনা হয়- “বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে শান্তি আর সংঘর্ষ” এর বিভিন্ন বিষয়বস্তু নিয়ে। এটিও একটি সেন্সেটিভ একটি ইস্যু, যার আলোচনা এই সেশনে খুবই চমৎকারভাবে হ্যান্ডেল করা হইসিলো। এখানেও কিছু গ্রুপ টাস্ক ছিল, যেগুলা খুবই ইনফরম্যাটিভ ছিল। তার মধ্যে একটি ছিল বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে আমাদের যেসব প্রচলিত মিথ/ভুল ধারণা, তার ওপেন ডিসকাশন। এটা খুবই খুবই কার্যকরী একটা প্রসেস ছিল।

পঞ্চম সেশনে আমাদের বিগত চার সেশনের বিষয়বস্তুগুলোকে একত্রিত করে ডিসকাশন, ডিবেট এর আয়োজন করা হয়। এগুলার কারণ, ইফেক্টস এবং কিভাবে এগুলা প্রতিহত করা যায়, তা নিয়েও খুবই এনারজেটিক বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে তুলে ধরা হইসিলো। ছয় সপ্তাহের এই সেশনের পর আমরা কিভাবে এরকম সোশ্যাল সমস্যা নিরসনে কাজ করতে পারি, সেগুলা নিয়ে একটা গ্রুপ ভিত্তিক কাজ করতে দেয়া হয়, যেখানে প্রতি গ্রুপ তাদের নিজস্ব পারসোনাল পজিশন থেকে কী কী কাজ করতে পারবে, সেগুলা তুলে ধরা। আশা করি, এটা নিয়ে আমরা যারা সেখানে ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছিলাম, তারা কিছু একটা করবো।

সর্বশেষ সেশনটি নেন নূর ভাই। তিনি আমাদেরকে পরিচয় করিয়ে দেন বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট আর তাদের ক্যাপাবিলিটির সাথে। তিনি কিছু রিয়েল লাইফ এক্সপেরিয়েন্সও আমাদের মাঝে শেয়ার করেন। এন্টি-টেররিজম ইউনিটের কিছু দুঃসাহসিক অপারেশনের ঘটনা এবং অভিজ্ঞতা আমাদের সামনে প্রেজেন্টেশন আকারে দেখান। কোনো সমস্যা হলে বাংলাদেশ পুলিশ থেকে কিভাবে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে তিনি আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দিয়ে যান। বাংলাদেশ পুলিশ যে এই সেক্টরে অবিরত কাজ করে যাচ্ছে, সেই ব্যাপারে অনেক কিছু জানতে পারসি এই সেশনের মাধ্যমে।

লাস্টের দিন অনেক সেন্টিমেন্টাল ছিল। বলা যায়, পুরা সপ্তাহে যা প্যারা যাইতো আমাদের উপর, তা এই ওয়ার্কশপে এসে দূর হয়ে যাইতো। ডেইলি ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, বিকেলের নাস্তা তো ছিলই। দুপুরের ব্যুফে লাঞ্চটা আমাদের সবাইই মিস করবে। তারপর লাঞ্চের আগে-পরে, যখন সময় হত তখনই হার্ডবোর্ডের ফাইল আর টেনিস বল নিয়ে ক্রিকেট ম্যাচ শুরু হত, যা কখনও ভোলার মত না। তাছাড়া আছে বাইরের ডিপার্ট্মেন্টের কিছু জোস জোস সিনিওর, এই ওয়ার্কশপ না করলে যাদেরকে চেনা হত না। খুবই ভাল সময় কাটসে এই ৬ দিন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন সদস্যদের কাছ থেকে উনাদের অভিজ্ঞতার কাহিনী শুনতে পেরেছি। উনাদের সাথে বন্ধুর মতই হাসি ঠাট্টা, ক্রিকেট খেলা, গল্প করা সব হইসে। নরমালি পুলিশদের দেখলে আমরা সাধারনত একটু দূরে দূরে থাকি, ভয়ে থাকি। কিন্তু এই ওয়ার্কশপের মাধ্যমে বুঝলাম যে উনারা আসলেই হেল্পফুল, জনগণের হেল্প করতে উনারা প্রস্তুত।

শেষ বিকেলে ছিল অল-পার্সন ওপেন ক্রিকেট ম্যাচ, বিকেলের চা আর টনিদা-র গান। উনি আসলেই ভালো গান গাইতে পারেন ! উনার দাবী, উনি নাকি জন কবিরকে গান শিখাইসেন 😛 এখন ছয় সপ্তাহ শেষ, আর যাওয়া হবে না হোটেল ট্রপিক্যাল ডেইসিতে, না কাটাতে পারবো হাসির মুহূর্তগুলো সেইসব জোস জোস মানুষের সাথে।

Do NOT follow this link or you will be banned from the site!
×

Cart